মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

জেলা প্রশাসনের পটভূমি

কক্সবাজার এর পটভূমি

কক্সবাজার জেলা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা। এটি চট্টগ্রাম থেকে ১৫৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। কক্সবাজার প্যানেওয়া ’ নামেও পরিচিতি ছিল যার সাহিত্যিক নাম ‘হলুদ ফুল’। এর অপর একটি উল্লেখযোগ্য নাম হলো পালংকি। আধুনিক কক্সবাজারের নামকরণ করা হয়েছে প্রখ্যাত বিট্রিশ নৌ-অফিসার ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স (মৃত্যু-১৭৯৮) এর নামানুসারে। যিনি ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার আর্মি অফিসার ছিলেন।

 

ইতিহাসঃ

কক্সবাজাররের ইতিহাস মুঘল আমলে শুরু হয়েছে। বর্তমান কক্সবাজারের পাশ দিয়ে মুঘল শাসনকর্তা শাহ সুজা আরাকান প্রদেশে যাওয়ার পথে এ অঞ্চলের পাহাড় ও সাগরের মিলিত সৌন্দর্য অবলোকন করে মুগ্ধ হয়ে যান। তিনি তার সেনা-সামন্তকে এখানে ঘাঁটি করতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেনা বহরের  এক হাজার পালকি (ঢুলি) এখানে অবস্থান নেয়। এক হাজার ঢুলি (পালকি) এর নাম এর নামকরণও হয় ডুলাহাজারা যা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলার একটি ইউনিয়ন। মুঘল আমলের পরবর্তীতে এ অঞ্চল টিপরা এবং আরাকানদের দখলে চলে যায়। তারপর পর্তুগীজ’রা কিছু সময় এ অঞ্চলে শাসন করে। অত:পর ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর ক্যাপ্টেন হিরাম ককস কে এ অঞ্চলের দায়িত্বভার দেয়া হয়। তিনি এখানে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। যা ‘ককস সাহেবের বাজার’ এবং পরবর্তীতে কক্সবাজার নামে পরিচিত পায়। ১৮৫৪ সালে কক্সবাজার মুহকুমায় পরিণত হয়। ব্রিটিশ শাসন-পরবর্তীতে কক্সবাজার পূর্ব-পাকিস্তানের অংশ হয়। ক্যাপ্টন এ্যাডভোকেট ফজলুর করিম ককসবাজার পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান হন এবং সাগর সৈকতের পাশ দিয়ে বনায়নের সূচনা করেন যা কিনা পর্যটনের বিকাশ ও সাগরের জোয়ারের হাত থেকে কক্সবাজার কে রক্ষায় ভূমিকা রাখে। তিনি পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হল স্থাপন করেন। অবশেষে ১৯৮৪ সালে ককসবাজার মহুকুমা কক্সবাজার জেলায় উন্নীত হয়। বর্তমানে কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করছে। বাংলাদেশ সরকার তথা সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন অপার সম্ভাবনাময় সুদীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার বালুকাময় সমুদ্র সৈকতকে বিশ্বের দরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুপরিচিত করার লক্ষ্যে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।