মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রাকৃতিক সম্পদ

কক্সবাজার সদরের নাজিরটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সৈকতের বালিতে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি দামের অন্তত ১৭ লাখ ৪০ হাজার টন খনিজ পদার্থ মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের (বিএইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ড. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, সৈকত বালিতে মোট খনিজের প্রাক্কলিত মজুতের পরিমাণ ৪৪ লাখ (৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন) টন। প্রকৃত সমৃদ্ধ খনিজের পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টন (এক দশমিক ৭৫ মিলিয়ন)। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে উচ্চ চাহিদাধর্মী মজুত আকরিক রফতানি করতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মূল্যবান খনিজ বালি জিরকন, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট, গারনেট ও রুটাইল উত্তোলন করা যেতে পারে। আগেই অস্ট্রেলিয়া সরকার এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার নতুন হাইকমিশনার তার সরকারের আগ্রহের কথা পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়া সরকারের গভীর আগ্রহের কথা জানার পর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখার জন্য যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। যুগ্মসচিব আশরাফ আলী খান এই কমিটির আহ্বায়ক। আশরাফ আলী বাসস’কে বলেন, প্রিমিয়ার মিনারেলস নামে একটি অস্ট্রেলীয় কোম্পানি ব্যয়বহুল খনিজসম্পদ জিরকন উত্তোলনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪শ’ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতিটন জিরকনের দাম প্রায় ৬০ হাজার টাকা এবং বাকিগুলোর দাম গড়ে ৬ হাজার টাকা।
১৯৬০ সালে কক্সবাজারে এই খনিজ সম্পদের প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় এবং পরে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন (বিএইসি) বিভিন্ন গবেষণা শুরু করে। ১৯৭০ দশকের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সরকার একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে বাংলাদেশে একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দেয়। সমুদ্রের বেলাভূমি থেকে খনিজ সম্পদ পৃথকীকরণ করে তা আহরণের জন্য ১৯৭৫ সালে অস্ট্রেলীয় সরকারের সহায়তায় কক্সবাজারে একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। এতে সম্ভাব্য উত্তোলনে কিছু অগ্রগতি দেখা দেয়।
বিএইসি বিজ্ঞানীরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অপর একটি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করে। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই।
কক্সবাজারে সি বিচ এক্সট্রাকশন সেন্টারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ মশরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে খনিজ সম্পদ পরীক্ষামূলকভাবে উত্তোলন করা হচ্ছে এবং এই সম্পদ বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার কাছে চাহিদা অনুযায়ী ক্ষুদ্র পরিসরে বিক্রি করা হচ্ছে।